G

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পেটের চর্বি কমানোর সহজ ১০টি উপায়

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পেটের চর্বি কমানোর সহজ ১০টি উপায়, How to lose your belly fat, tips for losing belly fat

আপনি যদি আপনার পেটের অতিরিক্ত চর্বি নিয়ে চিন্তিত হন, আর যদি মনে করেন আপনার পেটের অতিরিক্ত চর্বি কমানো প্রয়োজন তাহলে আপনি ঠিক যায়গায় এসেছেন। বিজ্ঞান দ্বারা সমর্থিত এমন ১০টি কার্যকরি পরামর্শ যদি আপনি নিয়মিত অনুসরণ করেন তাহলে খুব শিগ্রই আপনি আপনার পেটের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ। 


পুরুষ কিংবা নারী উভয়ের জন্য পেটের অতিরিক্ত চর্বি একটি চিন্তার বিষয়। এই অতিরিক্ত চর্বির জন্য একজন সুন্দর মানুষকেও দেখতে অনেক কুৎসিত লাগে! অনেক ভাল মানের পোষাক পরার পরেও তাকে দেখতে অদ্ভুত লাগে শুধুমাত্র পেটের অতিরিক্ত চর্বির জন্য।


পেটের অতিরিক্ত চর্বি কমানোর জন্য ১০টি কার্যকরি পরামর্শঃ

১. প্রচুর আঁশ জাতীয় খাবার গ্রহণ করুনঃ এক গবেষণায় দেখা গেছে, আঁশ জাতীয় খাবার পেটের চর্বি কমাতে সাহায্য করে। আঁশ জাতীয় খাবার গ্রহণের ফলে অতিরিক্ত ক্যালরি কমাতে সহায়তা করে। উচ্চ আঁশ যুক্ত খাবারের মধ্যে রয়েছে শন বীজ, শিরতাকি নুডলস, ব্রাসেলস স্প্রাউট, অ্যাভোকাডো, শাপলা এবং ব্লাকবেরি ইত্যাদি।

আরো জানতে পড়ুনঃ আঁশ জাতীয় খাবারের তালিকা


২. অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুনঃ সয়াবিন এবং পাম্প জাতীয় তেল সর্বদা এড়িয়ে চলুন। আমাদের দেশের বেশির ভাগ রেস্টুরেন্ট এবং ফাস্টফুডের দোকানগুলোতে অতিমাত্রায় পাম্পতেল এবং সয়াবিন ব্যবহার করা হয়। এই ধরণের তেল স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরুপ। এসব তেলের পরিবর্তে সরিষার তেল ব্যবহার করা উচিত।


৩. কোমল পানীয় পরিহার করুনঃ সকল প্রকার কোমল পানীয়তে অতিরিক্ত চিনির মিশ্রন থাকে যেটা আপনার পেটে প্রবেশ করে চর্বি তৈরি করতে সাহায্য করে। বেশি পরিমান অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় পান করার ফলেও আপনার পেটের চর্বি অতি মাত্রায় বৃদ্ধি পেতে পারে। সুতরাং কোমল পানীয় পরিহার করে অতি মাত্রায় পানি পান করুন, এটা আপনার পেটের চর্বি কমাতে সাহায্য করবে।

You may also read: List of soft drinks products


৪. প্রোটিন যুক্ত খাবার গ্রহণ করুনঃ মাছ, মাংস, ডিম, দুধ এবং মটরশুটি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমান প্রোটিন রয়েছে। এসব খাবারে ফ্যাট কম থাকে। উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার শরীরের মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে এবং অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে।


৫. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রনঃ অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে শরীরের ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে। আপনি যদি আপনার অরিক্তি ওজন কমাতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে মানসিক চাপমুক্ত হতে হবে। মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রনের জন্য সদা হাসি-খুশি থাকুন এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলুন।


৬. চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুনঃ চিনিতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ফ্রুকটোজ যেটা নিয়মিত ব্যবহার করার ফলে আপনার শরীরে কিছু দীর্ঘ স্থায়ী রোগ বাসা বাঁধতে পারে। এসব রোগের মধ্যে রয়েছে হৃদরোগ, ডায়েবেটিকস, স্থুলতা ইত্যাদি। আমরা সাধারনত বাজারের যে সাদা চিনিটা ব্যবাহার করে থাকি সেটা ৮০% বেশি ক্যামিক্যাল থাকে এবং ২০% কম চিনি থাকে। চিনি যদি ব্যবহার করতেই হয় তাহলে বাজারের লাল চিনিটা ব্যবাহর করতে পারেন। লাল চিনিতে ক্ষতিকর ক্যামিক্যালের মাত্রাটা একটু কম।


৭. অ্যারোবিক ব্যায়ামঃ প্রতি সপ্তাহে অন্তত ৩০০ মিনিট অ্যারোবিক ব্যায়াম করুন। এটি আমার পেটের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে।

আরও দেখুনঃ অ্যারোবিক ব্যায়াম করার নিয়ম (ভিডিও)


৮. রান্নায় নারকেল তেল ব্যবহারঃ একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, স্থুলতা সম্পন্ন কিছু সংখ্যক লোক যারা ১২ সপ্তাহ ধরে নারকেল তেল দিয়ে রান্না করে খেয়েছেন তারা কোন প্রকার ব্যায়াম বা ডায়েট রুটিন ছাড়াই ওজন কমাতে সক্ষম হয়েছেন। 

আরও পড়ুনঃ প্রতিদিনের রান্নায় নারকেল তেল এর ব্যবহার


৯. চায়ের সাথে চিনি পরিহার করুনঃ চায়ের সাথে চিনি মিশিয়ে চা পান করা বাঙ্গালিদের একটা কমন অভ্যাস। কেউ চায়ের সাথে চিনি মিশিয়ে পান না করলে অনেকে তাকে ডায়েবেটিকসের রুগি বলে তিরস্কার করেন। চায়ের সাথে চিনি এবং পার্টি মানে কোমল পানীয় এটা আমাদের সমাজের একটা অন্যতম ফ্যাশন হয়ে দাড়িয়েছে।


১০. পর্যাপ্ত পরিমান ঘুমানোঃ প্রায় ৬৮০০ হাজারেরও বেশি মহিলাদের উপর এক গবেষণা করে দেখা গেছে, যারা প্রতি রাতে ৫ ঘন্টারও কম ঘুমাতেন তাদের ঐসব লোকদের তুলনায় ওজন বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে যারা প্রতি রাতে ৭ ঘন্টারও বেশি সময় ঘুমাতেন। 


সুতরাং উল্লিখিত নির্দেনাসমুহ নিয়মিত মেনে চললে আপনি আপনার পেটের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সক্ষম হবেন। অতিরিক্ত ওজন কমান, ভাল থাকুন, সুস্থ্য থাকুন।


No comments:

Post a Comment