G

সৃজনশীল প্রশ্নের উদ্দীপক তৈরির কৌশল

সৃজনশীল প্রশ্নের উদ্দীপক তৈরির কৌশল
সৃজনশীল প্রশ্নের তৃতীয় অংশে এমন একটি বিষয় যোগ হয় যা খুবই নতুন। আমাদের গতানুগতিক ধারার প্রশ্নে এই বিষয়টি কখনোই ছিল না। এর নাম “উদ্দীপক”। এটি মনের খোলা জানালা। এর উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের মনকে মনের ভাবনা বা চিন্তাকে পাঠ্য বইয়ের সীমিত গণ্ডি থেকে পড়ার বইয়ের বাইরের পড়ার সাথে সম্পৃক্ত করা যাতে শিক্ষার্থীরা মনের জানালা খুলে পাঠ্য বইয়ে পড়া বিষয়কে বাস্তব পৃথিবীর সাথে মিলিয়ে বৃহত্তর পরিসরে ব্যাপারটিকে সে অনুধাবন করতে পারে। 


“উদ্দীপক” বিষয়টি কী? উদ্দীপক হল গদ্যাংশ বা পদ্যাংশ বা গ্রাফ, চার্ট, ছবি ইত্যাদি যার বক্তব্যের সাথে ঐ প্রশ্নের কোথাও না কোথাও এক বা একাধিক অনুভূতি বা চিন্তার নিবিড় মিল আছে। 


প্রসঙ্গত , প্রশ্নের প্রথম ও দ্বিতীয় অংশের উত্তর অবশ্যই পাঠ্য বই থেকে দিতে হবে। তবে প্রশ্নের তৃতীয় ও চতুর্থ অংশের উত্তর দিতে হয় উদ্দীপকের সহায়তা নিয়ে। নিম্নে উদ্দীপক তৈরির কৌশল 

১. পাঠ্য বই থেকে অর্জিত জ্ঞানকে কোনো ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে উদ্দীপক তৈরি করতে হবে এবং উদ্দীপক তৈরির সময় বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে দক্ষতা স্তরকে বিবেচনায় রেখে পরিস্থিতি নির্বাচন করতে হবে। 

২. উদ্দীপকে তথ্যের বৈচিত্র্যতা থাকতে হবে।

৩. উদ্দীপক হবে মৌলিক, এটি পাঠ্য বইয়ে সরাসরি থাকবে না। উদ্দীপক হিসেবে সরাসরি পাঠ্য বইয়ের কোনো অংশ বা অনুচ্ছেদ ব্যবহৃত হবে না। 

৪. কখনো কখনো সিলেবাস বহির্ভূত কোনো প্রবন্ধ, গল্প, ছোট গল্প এবং কবিতা থেকে সরাসরি উদ্ধৃতি দেওয়া যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে লক্ষ রাখতে হবে উদ্দীপকটি যেন প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতার প্রশ্ন তৈরির চাহিদা পূরণে সক্ষম হয়।

৫. উদ্দীপকের ভাষা হবে সহজ, সংক্ষিপ্ত, বোধগম্য এবং আকর্ষণীয়।

৬. খেয়াল রাখতে হবে উদ্দীপকে যাতে অপ্রয়োজনীয় শব্দ বা বাক্যের ব্যবহার না হয়।

৭. উদ্দীপক পাঠ্য বইয়ের বিষয়বস্তুর সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে এবং বিষয়বস্তুর ওপর ভিত্তি করে প্রণীত হবে।

৮. পাঠ্য বইয়ের একাধিক অধ্যায় সমন্বয় করেও উদ্দীপক তৈরি করা যাবে।

৯. পাঠ্য বই থেকে অর্জিত জ্ঞানকে কোনো ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত করে উদ্দীপক প্রণয়ন করতে হবে।

১০. পত্রিকা রেফারেন্স বই, প্রবন্ধ, রেডিও ও টেলিভিশনে প্রচারিত বিভিন্ন তথ্য বা ঘটনা, প্রামাণ্যচিত্র, বিজ্ঞাপন ও বিজ্ঞাপন চিত্র ইত্যাদি উদ্দীপকের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

১১. সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদ, মানচিত্র, সারণি, গ্রাফ, ডায়াগ্রাফ, লেখচিত্র, ছবি ইত্যাদি অথবা এগুলোর সমন্বয়ে উদ্দীপক তৈরি করা যাবে।

১২. উদ্দীপক বা দৃশ্যকল্পে প্রশ্নের উত্তর সরাসরি থাকবে না, তবে উত্তর করার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে সাহায্য করবে। একটি প্রশ্নের উত্তর বা উত্তরের ইঙ্গিত অন্য কোনো প্রশ্নের উদ্দীপকে থাকবে না।


উদ্দীপক তৈরির সময় যা খেয়াল রাখা আবশ্যক তা হলো-

পাঠ্য বই থেকে অর্জিত জ্ঞানকে কোনো ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে উদ্দীপক তৈরি করতে হবে যাতে মনের খোলা জানালার ভেতর দিয়ে বিষয়বস্তুর সাথে একটি সম্পর্ক তৈরি করে নিতে পারে। তাই উদ্দীপক তৈরির সময় বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে দক্ষতার/ কাঠিন্যের স্তরকে বিবেচনায় রেখে পরিস্থিতি নির্বাচন করতে হবে। উদ্দীপকে তথ্যের বহুমুখিতা থাকতে হবে। উদ্দীপক হবে মৌলিক, এটি পাঠ্য বইয়ে সরাসরি থাকবে না। 


উদ্দীপক হিসেবে সরাসরি পাঠ্য বইয়ের কোনো অংশ বা অনুচ্ছেদ ব্যবহৃত হবে না। কখনো কখনো সিলেবাস বহির্ভূত কোনো প্রবন্ধ, গল্প, ছোট গল্প এবং কবিতা থেকে সরাসরি উদ্ধৃতি দেয়া যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে লক্ষ রাখতে হবে উদ্দীপকটি যেন প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতার প্রশ্ন তৈরির চাহিদা পূরণে সক্ষম হয়। উদ্দীপকের ভাষা হবে আকর্ষণীয়, সহজ বোধ্য এবং যতদূর সম্ভব সংক্ষিপ্ত। অপ্রয়োজনীয় শব্দ বা বাক্য বাদ দিয়ে করতে হবে। উদ্দীপকে পাঠ্য বইয়ের একাধিক অধ্যায় সমন্বয় করেও উদ্দীপক তৈরি করা যাবে।


পাঠ্য বই থেকে অর্জিত জ্ঞানকে কোনো ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে উদ্দীপক প্রণয়ন করতে হবে। পত্র-পত্রিকা, রেফারেন্স বই, প্রবন্ধ, রেডিও ও টেলিভিশনে প্রচারিত বিভিন্ন তথ্য বা ঘটনা, প্রামাণ্যচিত্র, বিজ্ঞাপন ও বিজ্ঞাপন চিত্র ইত্যাদি উদ্দীপকের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদ, মানচিত্র, সারণি, গ্রাফ, ডায়াগ্রাফ, লেখচিত্র, ছবি ইত্যাদি অথবা এগুলোর সমন্বয়ে উদ্দীপক তৈরি হবে। উদ্দীপক বা দৃশ্যকল্পে প্রশ্নের উত্তর সরাসরি থাকবে না, তবে উত্তর করার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে সাহায্য করবে। একটি প্রশ্নের উত্তর/ উত্তরের ইঙ্গিত অন্য কোনো প্রশ্নের উদ্দীপকে থাকবে না।


নিচে দুটি কবিতাংশ দিয়ে রচিত সৃজনশীল প্রশ্নের উদ্দীপক এবং ‘গ’ ও ‘ঘ’ প্রশ্ন উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করে সহায়ক বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা যায়। সৃজনশীল প্রশ্নের উদ্দীপকটি এমন হতে পারে।

১. ‘অদূরে বিল থেকে পানকৌড়ি, মাছরাঙা, বক পাখায় জলের ফোঁটা ফেলে দিয়ে উড়ে যায় দূরে, জনপদে কি অধীর কোলাহল মায়াবী এ নদী, এনেছে স্রোতের মত, আমি তার খুঁজি নি কিছুই।’

২. কাননের পথে লহর খেলিছে অবিরাম জলধারা তারি স্রোতে আজি শুকনো পাতারা ছুটিয়াছে ঘর ছাড়া। হিজলের বন ফুলের আখরে লিখিয়া-রঙিন চিঠি নিরালা বাদলে ভাসায়ে দিয়েছে না জানি সে কোন দিঠি।

ওপরের দুটি উদ্দীপক অবলম্বনে দুটি প্রশ্ন যেমন হতে পারে

গ. প্রশ্নটি হতে পারে: উদ্দীপকের কবিতাংশ দুটির কবিতাদ্বয়ের ভাবনার মধ্যে কী রূপ মিল খুঁজে পাও, তা ব্যাখ্যা করো।

ঘ. প্রশ্নটি হতে পারে: কবি হৃদয়ের অনুভূতি প্রকাশের দিক থেকে দ্বিতীয় কবিতাংশ জসীম উদ্‌দীনের রচিত ‘পল্লী বর্ষা’ কবিতা থেকে উদ্ধৃত। প্রথম কবিতাংশ শিক্ষার্থীদের পরিচিত কিন্তু দ্বিতীয় কবিতাংশ অনেক শিক্ষার্থীর কাছে অপরিচিত। এ অবস্থায় যে শিক্ষার্থী উভয় কবিতাংশের সঙ্গে পরিচিত, সে অন্য অপরিচিতদের তুলনায় সহজে দুটি কবিতাংশের কবিদ্বয়ের ভাবনা কিংবা অনুভূতির মিল ও গর মিল শনাক্ত করতে পারবে।


সবক্ষেত্রে যা মনে রাখা আবশ্যক, তা হলো- কোনো জাতি, ক্ষদ্র নৃগোষ্ঠী, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, রাজনৈতিক আদর্শ, দেশ, অঞ্চল, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব, ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে হেয় করে বা আঘাত করে উদ্দীপক এবং প্রশ্ন প্রণয়ন করা যাবে না।

রাজনৈতিক বা ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব অথবা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বকে সবজ্ঞা বা অশ্রদ্ধা করেও উদ্দীপক এবং প্রশ্ন প্রণয়ন করা যাবে না। মনে রাখতে হবে যে, কারিকুলামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তকের তথ্যের আলোকে শিক্ষার্থীর চিন্তা করার দক্ষতা কোন স্তরে অবস্থান করছে তা মূল্যায়ণ করাই প্রশ্ন প্রণয়ন ও পরীক্ষার উদ্দেশ্য। হিংসা বা বিদ্বেষ ছড়াতে পারে, মানহানির ঘটনা ঘটতে পারে এমন উদ্দীপক বা প্রশ্ন কোনভাবেই প্রণয়ন করা যাবে না।

No comments:

Post a Comment