ঠান্ডা অথবা গরম যে কোন ধরণের চা আপনি পান করতে পারেন। তবে এশিয়া মহাদেশের বেশির ভাগ মানুষই গরম চা পান করে থাকেন। নিয়মিত চা পান মনকে সতেজ করে তোলে। প্রচুর গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত চা পান স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারি।
বাংলাদেশের জনপ্রিয় চা সমূহ:
Ispahani Mirzapore Tea
Zareen Premium Tea
Premium Green Tea
গত বৃহস্পতিবার জার্নাল অব প্রিভেন্টিভ কার্ডিওলজিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চীনের প্রায় ১০ লক্ষেরও বেশি প্রাপ্ত বয়স্কদের উপর ৭ বছর ধরে গবেষণা করে দেখা গেছে যে, যারা নিয়মিত চা পান করেন তাদের Atherosclerotic cardiovascular বা যেকোন ধরণের অপমৃত্যু বিশেষ করে স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
এমনকি যারা সপ্তাহে কমপক্ষে ৩ বার চা পান করেছেন তাদের ফলাফলটাও বেশ কার্যকর ছিল। তবে ব্লাক চা এর পরিবর্তে গ্রীন চা বেশি কার্যকর ছিল।
গবেষণায় দেখা যায়, ৫০ বছর বয়সী একজন ব্যক্তি যিনি নিয়মিত চা পান করেন তার হৃদ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম। এমনকি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনের পাশাপাশি স্ট্রোকের কারণে মারা যাওয়ার ঝুঁকিও কম।
বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় চা:
গ্রীন চা-তে রয়েছে প্রচুর পরিমানে Flavonoids এবং Bioactive এর সংমিশ্রণ যা Oxidative stress কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও গ্রীন চা-তে রয়েছে প্রদাহ জনিত উপশম এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য উপকারিতা।
অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত চা পানের মাধ্যমে আপনি আপনার দাঁতকে আরো মজবুত এবং হার্টকে আরো শক্তিশালী করতে পারেন। যারা নিয়মিত চা পান করেন তাদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম। এছাড়াও নিয়মিত চা পানের মাধ্যমে আপনি আপনার শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ করতে পারেন, যেটা আপনার সুস্বাস্থ্যের জন্য অনেক জরুরি।
এবার আসুন এক নজরে দেখে নেয়া যাক, নিয়মিত চা-পানের ১০টি উপকারিতাঃ
১. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টঃ চা-তে রয়েছে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট- বিশেষ করে গ্রীন চা-তে। যা আপনার শরীরের মরিচা দূর করে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এটি আপনার তারুন্যকে ধরে রাখতে সাহায্য করে।
২. ক্যাফেইনের মাত্রা কমঃ কফির তুলনায় চা-তে ক্যাফেইনের মাত্রা কম, বিশেষ করে গ্রীন চা-তে ক্যাফেইনের মাত্রা অনেক কম।
৩. হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমঃ যারা নিয়মিত চা পান করেন তাদের হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক কম। বিশেষ করে যারা দিনে কমপক্ষে ৩ বার গ্রীন চা পান করেন।
৪. ওজন কমাতে সাহায্য করেঃ নিয়মিত গ্রীন চা পান করার মাধ্যমে ওজন কমাতে সাহায্য করে। তবে এ বিষয়ে গবেষণা ততটা শক্তিশালী নয়।
৫. হাড়ের ক্ষয়রোধঃ নিয়মিত চা পান আপনার হাড়ের ক্ষয়রোধে সাহায্য করে। বিশেষ করে মুরিংগা চা যেটা দক্ষিণ এশিয়ায় পাওয়া যায়। এটাতে দুধের চেয়েও বেশি ক্যালসিয়াম, ভিটামিন A এবং ভিটামিন K রয়েছে।
৬. উজ্জল হাসিঃ নিয়মিত চা পান আপনার দাঁতের ক্ষয়রোধে সহায়তা করে। এটি আপনার মুখের pH বৃদ্ধি করে এবং Caveties প্রতিরোধে সহায়তা করে।
৭. রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিঃ এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত চা পান শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। শতাব্দী ধরে প্রাচীন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকগন তুলসি চা Antibacterial, anti-fungal এবং antiflammatory হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন।
৮. ক্যান্সার প্রতিরোধঃ অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত চা পান ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। একদল গবেষক বলেছেন, আপনি যদি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে আপনি আপনার চা পানের মাত্রাটা বাড়িয়ে দিন।
৯. হজম শক্তি বৃদ্ধিঃ নিয়মিত ভেষজ চা পানের মাধ্যমে আপনি আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে পারেন। গ্রীন চা এর সাথে আদা দিয়ে আপনি নিয়মিত পান করতে থাকুন, এটির Chammomile জ্বালাময়ী অন্ত্রের জন্য Antispasmodic হিসেবে কাজ করে।
১০. ক্যালরি মুক্তঃ চা সম্পূর্ণ ক্যালরি মুক্ত এবং পানির বিকল্প হিসেবে এটি ব্যবহার করতে পারেন। ঠান্ডা অথবা গরম যে কোন ভাবে চায়ের সাথে দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ ইত্যাদি মিশিয়ে মুখরোচক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
পরিশেষে, নিজেকে সুস্থ্য রাখতে চায়ের সাথে বাজারের প্রচলিত দুধ-চিনি না মিশিয়ে দুধ-চিনি ছাড়া নিয়মিত চা পান করুন, চায়ের আসল স্বাদ উপভোগ করুন, সুস্থ্য থাকুন, ভালু থাকুন।

No comments:
Post a Comment